পর্ণগ্রাফি মামলায় গ্রেফতার উপ-সহকারী প্রকৌশলী

Bangla Post Desk
বাংলা পোস্ট প্রতিবেদক
প্রকাশিত:০৬ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০০ পিএম
পর্ণগ্রাফি মামলায় গ্রেফতার উপ-সহকারী প্রকৌশলী

ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এলজিইডির এক উপসহকারী প্রকৌশলী সামিউল আলীম (২২)। সেই সম্পর্কের সুযোগে তরুণীর অর্ধনগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় বুধবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বরগুনা সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে তাকে গ্রেফতার করে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

গ্রেফতার সামিউল আলীম ঢাকার সাভার থানার বজলুর রহমানের ছেলে এবং বরগুনা সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অনলাইন সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রতারণা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত চলছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী একজন কলেজ শিক্ষার্থী। ২০২৩ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে তার পরিচয় হয় এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী সামিউল আলিমের সঙ্গে। পরিচয়ের পর নিয়মিত ফোন ও ভিডিও কলে কথা বলতে থাকায় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তরুণীর অভিযোগ, ভিডিও কলে কথা বলার সময় বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে এবং ভুল বুঝিয়ে সামিউল তাকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় আসতে বাধ্য করত। কিছুদিন পর তরুণী জানতে পারেন, সামিউল একাধিক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রাখে এবং তার চরিত্র নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। এতে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে সামিউল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর সে দাবি করে, তরুণীর অর্ধনগ্ন ছবি ও ভিডিও তার মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক না রাখলে কিংবা তাকে ৮ লাখ টাকা না দিলে এসব ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে গত ২৮ অক্টোবর সামিউল আলিম বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে তরুণীর অর্ধনগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে দেয়। এমনকি তরুণীর ছোট বোনের মেসেঞ্জারেও ভিডিওর লিংক পাঠায়। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর তরুণী থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, সামিউল আলিম ভিডিও কলে কথা বলার সময় চাপ প্রয়োগ করে তাকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় আসতে বাধ্য করে এবং সেই দৃশ্য গোপনে ধারণ করে। পরে ওই ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি তৈরি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

তরুণীর অভিযোগ, সামিউল তার ব্যক্তিগত অর্ধনগ্ন ভিডিও ফেসবুক পেজ, মেসেঞ্জার ও বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার করে, যার ফলে তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

ঘটনার পর তরুণী মানিকগঞ্জ সদর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “গ্রেফতারকৃত উপসহকারী প্রকৌশলী সামিউল আলিমকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।”