সারাদেশে মোবাইল দোকান বন্ধের ডাক
এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) নীতির সংস্কারসহ একাধিক দাবিতে রোববার (৩০ নভেম্বর) দেশের সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ থাকবে। মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রয়সহ সব ধরনের ব্যবসা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার এ কর্মসূচি ডেকেছে স্মার্টফোন ও গ্যাজেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)।
জানিয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাওয়া (এনইআইআর) ব্যবস্থায় দেশের প্রায় ২০ হাজার ব্যবসায়ীর স্বার্থকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে তাদের এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সংগঠনটির সভাপতি মো. আসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা চাই এনইআইআর ব্যবস্থা চালু হোক, তবে আমাদের মতো সাধারণ ব্যবসায়ী এবং এই ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ মানুষের রুজি-রুটি নষ্ট যেন না হয়। বর্তমান প্রস্তাবনায় শুধু একটি গোষ্ঠী লাভবান হবে, আর ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আমরা ও সাধারণ ভোক্তারা। আমাদের দাবি বিটিআরসি বিবেচনা করছে এমন নজিরও দেখছি না। তাই আমরা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।
দোকান বন্ধের পাশাপাশি মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হবে বলেও জানান আসলাম।
এই ব্যবসায়ী বলেন, রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার–পান্থপথ এলাকায় শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই এবং সাধারণ জনগণের কাছে আমাদের দাবিগুলো পৌঁছে দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে জনমত গঠন করা।
এমবিসিবি সভাপতি বলেন, এর আগে গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হাসিনার ভাড়াটে গুণ্ডাবাহিনীর মতো ব্যবহার করে একজন সাংবাদিক এবং আমাদের সাধারণ সম্পাদককে তুলে নেওয়া হয়েছিল- আমাদের সংবাদ সম্মেলন বানচাল করতে। প্রবল সমালোচনা এবং গণবিক্ষোভের মুখে আমাদের ছেড়ে দিলেও, আমাদের সঙ্গে সরকারের কোনো পক্ষ আলোচনায় বসেনি। আমাদের দেওয়া চিঠিরও জবাব দেয়নি বিটিআরসি। কাজেই সরকারের কাছে দাবিদাওয়া পেশ করতে এবং সেগুলো যেন তারা বিবেচনা করেন; সেই লক্ষ্যে এই মানববন্ধন এবং দোকান বন্ধের কর্মসূচি পালন করা হবে।
এমবিসিবি নেতারা বলেন, বর্তমান নীতি মোবাইল ব্যবসায়ীদের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করছে এবং বাজারে একচেটিয়া সিন্ডিকেটকে উৎসাহিত করছে। তাদের দাবি, ন্যায্য করনীতি, একচেটিয়া সিন্ডিকেট বন্ধ এবং মোবাইল ফোনের উন্মুক্ত আমদানির সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারবে না।
সংগঠনটি আগেও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে এ বিষয়ে অবহিত করেছে। পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে বলেও জানান এমবিসিবির নেতারা।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে হ্যান্ডসেট নিবন্ধন ব্যবস্থা তথা এনইআইআর চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিটিআরসি। তবে এর কিছু শর্ত নিয়ে আপত্তি রয়েছে সাধারণ মোবাইল বিক্রেতাদের। এজন্য দীর্ঘদিন যাবত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তারা।
