নরসিসাসের আত্মমুগ্ধতার আঁধার বনাম এমপ্যাথের হৃদয়ের আলো: কোন সত্ত্বা নিয়ে বাঁচব?
মানুষের মনোবৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটটি এক অসামান্য দ্বৈততার জালস্বরূপ, যা অদৃশ্য তন্তুতে বোনা আলো ও ছায়ার এক অবশ্যম্ভাবী লীলা। এই আলো-অন্ধকারের মেরুদণ্ডে অবস্থান করে দুটি প্রধান চরিত্র, যারা যথাক্রমে আত্মমগ্ন (নরসিসিস্টিক) এবং সহমর্মী (এমপ্যাথেটিক) সত্তা নামে পরিচিত। যেন একই মানবজমিনে প্রোথিত দুই ভিন্ন বৃক্ষ; যেখানে একজন স্ব-মহিমায় মগ্ন থাকে, অন্যজন তার শিকড়ের নির্যাস দিয়ে অন্যকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস চালায়। একদিকে নিবিড় স্বার্থপরতার কুয়াশামাখা অবয়ব, অন্যদিকে নিঃশব্দ মমতার স্নিগ্ধ জোৎস্নামাখা অস্তিত্ব—এই দুই সত্তার গতির প্রকৃতি এবং স্রোতের অভিমুখ সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও, নিয়তির কঠিন পরিহাসে তারা প্রায়শই এক ঝুঁকিপূর্ণ আন্তঃসম্পর্কে আবদ্ধ হয়।
আত্মমগ্ন ব্যক্তিত্বের জীবন যেন গ্রিক পুরাণের নার্সিসাসের প্রতিচ্ছবি, যা এক চিরন্তন আত্মমুগ্ধতার কূপে বন্দি। এদের দৃষ্টিতে, তারা স্বয়ং সূর্যস্বরূপ এবং পারিপার্শ্বিক ব্যক্তিবর্গ কেবল গ্রহ-উপগ্রহ, যারা তাদের আলোকচ্ছটায় বাঁচার অনুমতিপ্রাপ্ত অনুচর। এই মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোর চিত্র ফ্রয়েডের (Freud, উনিশশো চৌদ্দ) 'আত্ম-বিনিয়োগের' ধারণা থেকে শুরু করে কোহুটের (১৯৭১) স্ব-বিজ্ঞান এবং কার্নবার্গের (১৯৭৫) ব্যক্তিত্বতত্ত্বে সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিফলিত।
কোহুটের মতে, আত্মমগ্নরা তাদের অন্তঃস্থ শূন্যতা আড়াল করার জন্য এক 'বিশালত্বপূর্ণ আত্ম' বা 'গ্র্যান্ডিওস সেল্ফ' নির্মাণ করে। পক্ষান্তরে, কার্নবার্গ এটিকে ব্যক্তিত্বগত কাঠামোর একটি বিনাশী দিক হিসেবে চিত্রিত করেন।
আত্মমগ্নদের আচরণগত বৈশিষ্ট্যগুলো গুরুতর উদ্বেগের কারণ হতে পারে। প্রথমত, তাদের মধ্যে অতিরিক্ত স্ব-মহিমা ও বিশেষাধিকারের প্রত্যাশা পরিলক্ষিত হয়; তাদের ধারণা থাকে যেন সমগ্র পৃথিবী তাদের ইচ্ছানুসারে পরিচালিত হবে। এই আচরণে বৃহৎ দাবি, অন্যদের তুলনায় বিশেষ অধিকারের প্রত্যাশা এবং সামান্য ত্রুটিতেও ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যেমন, কোনো অফিসের ব্যবস্থাপক তার কার্যভারের ব্যর্থতার দায় অধস্তনদের ওপর চাপিয়ে দেন এবং নিজের অবদানকে অতিশয় অতিরঞ্জিত করেন।
দ্বিতীয়ত, তাদের মধ্যে সহানুভূতির অভাব (Lack of Empathy) সুস্পষ্ট। অন্যের কষ্ট বা বেদনা তাদের নিকট নিছক একটি পরিসংখ্যান অথবা লক্ষ্য অর্জনের বাধা হিসেবে প্রতীয়মান হয়, যেখানে তারা আত্মিক দুর্বলতা শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয় অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্রাহ্য করে।
তৃতীয়ত, তারা চমৎকার অভিনয় দক্ষতা বা 'ইমপ্রেশন ম্যানেজমেন্টের' আশ্রয় নেয়। সামান্য সুবিধা লাভের জন্য তারা সহজেই 'দয়ালু' বা 'সহৃদয়' রূপ ধারণ করে—যা একপ্রকার স্ব-প্রচার। সামাজিক ক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত কৌশলী হতে পারে: প্রশংসা আহরণের জন্য দরদ প্রদর্শন করে, কিন্তু প্রয়োজন ফুরোলেই আবেগগতভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করে।
চতুর্থত, তারা গ্যাসলাইটিং ও মানসিক আধিপত্যের মাধ্যমে নিজের ভুল ঢাকতে অন্যের মানসিক ভারসাম্য নিয়ে খেলা করে। তারা বাস্তবতাকে বিকৃত করে ভুক্তভোগীকে সংশয়জালে জড়িয়ে ফেলে, যেমন: "তুমি ভুল বুঝেছো" বা "তুমি ওটাই চেয়েছিলে" ধরনের বাক্য প্রয়োগের মাধ্যমে মানসিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে ভুক্তভোগীর আত্মবিশ্বাসকে ভেঙে দেয়।
বাস্তব জীবনে এই ধরনের সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি ফলস্বরূপ ভুক্তভোগীর আত্মসম্মান হ্রাস, অবসাদ, উদ্বেগ ও সিদ্ধান্তহীনতা দেখা দেয়; কর্মক্ষেত্রে দলীয় কার্যকারিতা ব্যাহত হয় এবং পরিবারে মানসিক নির্যাতন ও বেঁচে থাকার জন্য মানসিক ব্যয় বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। ক্লিনিক্যাল ও সামাজিক প্রতিকার হিসেবে আত্মমগ্ন ব্যক্তির সাথে স্পষ্ট সীমারেখা তৈরি করা এবং আচরণগত কড়াকড়ি বজায় রাখা অপরিহার্য। ভুক্তভোগীদের জন্য কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT), ট্রমা-ইনফর্মড থেরাপি এবং কাউন্সেলিং-এর মতো ব্যক্তিগত থেরাপি অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিষ্ঠানগত প্রতিরোধ কৌশলের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভূমিকার বণ্টন, বহুমুখী মূল্যায়ন (three hundred and sixty-degree feedback) এবং গ্যাসলাইটিং বা মানসিক নির্যাতন প্রতিরোধী মানবসম্পদ নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।
অন্যদিকে, সহমর্মী ব্যক্তিত্বরা যেন নীরব আলো ছড়ানো মানুষ; তারা শীতের রাতের আগুনের মতো, নিজে প্রজ্জ্বলিত হয়ে অন্যের শীত নিবারণ করে। অন্যের দুঃখ তাদের অভ্যন্তরে প্রতিধ্বনির মতো অনুভূত হয়। তাত্ত্বিক এবং স্নায়ুবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, সহানুভূতি বা 'এমপ্যাথি'কে গোলম্যানের (Goleman, উনিশশো পঁচানব্বই) মানসিক বুদ্ধিমত্তার অংশ হিসেবে দেখা হলেও, সাম্প্রতিক স্নায়ুবিজ্ঞানীরা (Decety & Jackson, দুই হাজার চার; Singer & Lamm, দুই হাজার নয়) এটিকে একাধিক সিস্টেমের সমন্বয় বলে ব্যাখ্যা করেন: একটি অনুভূতিমূলক অংশ (Affective Resonance) এবং একটি কগনিটিভ অংশ (Perspective-Taking)। ব্যারন-কোহেনও (Baron-Cohen, দুই হাজার এগারো) এই ক্ষেত্রে "প্রো-সোশ্যাল সার্কিট্রি"র স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সহমর্মী মানুষের লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য আত্মমগ্নদের তুলনায় সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রথমত, তাদের মধ্যে গভীর অনুভবক্ষমতা বিদ্যমান, যার ফলে অন্যের দুঃখ-কষ্ট তাদের মধ্যে প্রতিধ্বনিত হয় এবং হৃদয়ের ভার বাড়িয়ে তোলে। যেমন, রোগী দেখলে চিকিৎসক তার দায়িত্বের বাইরে গিয়েও ব্যক্তিগত উদ্বেগ প্রকাশ করে রোগীকে সান্ত্বনা দেন।
দ্বিতীয়ত, তাদের আচরণে অহংহীনতা দেখা যায়; তারা নিজের পরিচয়কে পেছনে রেখে অন্যকে মনোযোগ সহকারে শোনে—ফলে তারা বিচারকমূলক না হয়ে বরং গ্রহণশীল হয়।
তৃতীয়ত, তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সহায়তার আগ্রহ প্রবল। ব্যাটসনের (Batson, উনিশশো একানব্বই) গবেষণা প্রমাণ করে যে, প্রকৃত সহানুভূতি প্রায়শই পরার্থপর আচরণের (Altruistic Behavior) জন্ম দেয়, অর্থাৎ অন্যের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা।
চতুর্থত, তাদের সংবেদনশীলতার দায় আছে; অতিরিক্ত সহানুভূতি কখনো কখনো তাদের নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে তারা 'এমপ্যাথেটিক ডিসট্রেস' বা আবেগগত ক্লান্তি অনুভব করতে পারে।
বাস্তব উদাহরণে এমন শিক্ষককে দেখা যায়, যিনি নিজের বেতনের অর্থে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বই কিনে দেন, অথবা সেই বন্ধুকে যিনি মধ্যরাতে ফোন করলেও রাগ নয়, উদ্বেগ নিয়ে সাড়া দেন। এই ধরনের সহানুভূতি কখনো শক্তি আবার কখনো বোঝা হয়ে দেখা দিতে পারে। এমপ্যাথেটিক মানুষের এই আচরণ সামাজিকভাবে মূল্যবান—তা আন্তঃসম্পর্কে গভীর যোগাযোগ সৃষ্টি করে এবং তাদের সহমর্মী নেতা বা সহকর্মী হতে সাহায্য করে। তবে সীমাহীন আত্ম-পরিবেচনার অভাবে তাদের মধ্যে মানসিক ক্লান্তি (Compassion Fatigue) এবং ক্ষয়প্রাপ্ত আত্মসম্মান দেখা দেয়। সুরক্ষা ও আত্ম-পরিচর্যার কৌশল হিসেবে সীমা নির্ধারণ ও সেল্ফ-কেয়ার অপরিহার্য: "না" বলতে শেখা, নির্দিষ্ট সময়ে আত্ম-পুনর্বিজন (রিজেনারেশন) নিশ্চিত করা এবং সহমর্মিতা ধরে রেখে কগনিটিভ-রিসোর্স রক্ষার কৌশল শেখানো (মাইন্ডফুলনেস, কম্প্যাশন-ফোকাসড থেরাপি) প্রয়োজন।
|
শ্রেণি |
নরসিসিজম সম্পর্কিত পরিসংখ্যান |
এমপ্যাথি সম্পর্কিত পরিসংখ্যান |
|
প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি/হ্রাস |
গত ৩০ বছরে নরসিসিজম ৩০% বৃদ্ধি |
১৯৭৯–২০০৯: এমপ্যাথি ৪০% হ্রাস |
|
যুবসমাজের প্রবণতা |
উচ্চ নরসিসিজম স্কোর করা শিক্ষার্থী দ্বিগুণ |
“এমপ্যাথিক কনসার্ন” ৪৮% কমেছে |
|
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রভাব |
সোশ্যাল মিডিয়া–নির্ভর আত্মমর্যাদা নরসিসিজম ১৮% বাড়ায় |
ডিজিটাল যোগাযোগের কারণে আবেগ বোঝার ক্ষমতা ৩৪% কমে |
|
সম্পর্কে প্রভাব |
নরসিসিস্টিক সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা ২.৫ গুণ বেশি |
উচ্চ–এমপ্যাথি সঙ্গীর সাথে সম্পর্কের স্থায়িত্ব ৪০–৫০% বেশি |
|
কর্মস্থলে প্রভাব |
নরসিসিস্টিক নেতা দলের সহযোগিতা ৩০–৪০% কমায় |
এমপ্যাথিক ম্যানেজারের অধীনে কর্মসন্তুষ্টি ৬০% বাড়ে |
|
সামাজিক প্রভাব |
সামাজিক আস্থা ২৫–৩২% কমে, সংঘাত ৪৫% বাড়ে |
সামাজিক সহযোগিতা ৬৫% বাড়ে, মানসিক সুস্থতা ৪০% বৃদ্ধি |
যখন আত্মমগ্ন ও সহমর্মী ব্যক্তিত্ব একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ হয়, তখন এক সম্পর্কীয় জটিলতা সৃষ্টি হয়। ডাটন ও পেইন্টারের (Dutton & Painter, উনিশশো তিরানব্বই) মতে, আত্মমগ্নদের চাহিদা এবং এমপ্যাথের সহানুভূতির এই যুগলবন্ধন অনেক সময় "আঘাত-বন্ধন" বা ট্রমা বন্ডে রূপান্তরিত হয়। এখানে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া (যেমন প্রশংসা বা আস্থা) এবং দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক আচরণ (যেমন অবহেলা বা মানসিক নির্যাতন) একইসঙ্গে বিদ্যমান থাকে। এর ফলে ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজেকেই দোষারোপ করে এবং সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে না।
স্টার্নের (Stern, দুই হাজার সাত) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে আত্মমগ্ন ব্যক্তি প্রলুব্ধিকর হয়, যেখানে সে প্রশংসা ও বিশেষ মনোযোগের মাধ্যমে সহমর্মীকে আকৃষ্ট করে এবং এভাবে আবেগগত নির্ভরতা গড়ে ওঠে। পরবর্তী পর্যায়ে আত্মমগ্ন ব্যক্তি ক্ষমতায় আরোহণ করে: তারা ছোট ছোট মানসিক নির্যাতন ও গ্যাসলাইটিং শুরু করে; সহমর্মী ব্যক্তি আঘাত সইতে থাকে এবং সম্পর্ক রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে নিজেকে দোষারোপ করে। এই ধরনের সম্পর্কের ফলে সহমর্মী মানুষেরা আবেগগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়; তাদের মধ্যে আত্মপ্রতিষ্ঠার সংকট, মানসিক অসন্তোষ, ক্লান্তি এবং বিষণ্নতা দেখা দেয়। পারিবারিক ও পেশাগত ক্ষতি বৃদ্ধি পায় এবং শিশুরা মানসিকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
এই বিপজ্জনক সম্পর্ক থেকে পরিত্রাণ বা পুনর্গঠনের জন্য বহির্গমন নীতি (Exit Strategies) তৈরি করা অপরিহার্য, যার মধ্যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, আইনগত সহায়তা এবং থেরাপিউটিক সাপোর্ট অন্তর্ভুক্ত। পুনরুদ্ধার থেরাপি হিসেবে সিবিটি, ট্রমা-ইনফর্মড কেয়ার এবং সাপোর্ট গ্রুপে অংশগ্রহণ; বিশেষত সহমর্মীদের জন্য কম্প্যাশন ফ্যাটিগ-নির্দিষ্ট ইন্টারভেনশন প্রয়োজন।
এই মনস্তাত্ত্বিক দ্বৈততা কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, সামাজিক বিন্যাসকেও গভীরভাবে অনুসরণ করে। গোলম্যান (Goleman, উনিশশো পঁচানব্বই) পরামর্শ দেন যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক বুদ্ধিমত্তা ও সহানুভূতি প্রশিক্ষণের প্রচলন করা উচিত, যা ক্ষতিকর আচরণ শনাক্ত করতে সহায়তা করে। ব্যানক্রফট (Bancroft, দুই হাজার দুই) উল্লেখ করেছেন, কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিকর আচরণ নিবারণে সুনির্দিষ্ট মানবসম্পদ নীতিমালা, হুইসেলব্লোয়ার ব্যবস্থা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুবিধা থাকা জরুরি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ অনুসারে, যে সংস্থাগুলোতে বহুমুখী মতামত নেওয়া হয়, সেখানে কর্মক্ষেত্রে মানসিক হয়রানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে।
আত্মমগ্ন এবং সহমর্মী—এই উভয় চরিত্রই মানব সমাজের অপরিহার্য উপাদান। তবে যে সমাজে অহংকার প্রাধান্য পায়, সেখানে সহানুভূতির আলো নিভে যায়; আর যেখানে সহানুভূতি অতি অতিরিক্ত দিয়ে নিজেকে ঝুঁকিতে ফেলে, সেখানে দুর্বলতা শোষিত হয়। চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো সীমা নির্ধারণ ও সহানুভূতির টেকসই রূপ শেখানো—যাতে কেউ দান করে নিজেকে না ভাঙে, আর কেউ সুবিধার নামে অন্যকে শোষণ না করতে পারে। প্রত্যেকের ভেতরের অহংকারকে নয়, বরং সহানুভূতির সেই কোমলতাকে জাগিয়ে তোলা প্রয়োজন, যা অন্যকে বাঁচাতে নিজের হৃদয়কেই প্রদীপ বানায়। কারণ হৃদয় দিয়ে যা দেওয়া যায়, শক্তি দিয়ে তা কেবলই কেড়ে নেওয়া যায়।
লেখক: ড. তারনিমা ওয়ারদা আন্দালিব ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক এবং দাউদ ইব্রাহিম হাসান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।
