১২ দিনের যুদ্ধে

ইসরায়েলের ১৯৬টি বিমান ও ড্রোন ধ্বংস করেছে ইরান

Bangla Post Desk
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঢাকা
প্রকাশিত:৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:১৫ পিএম
ইসরায়েলের ১৯৬টি বিমান ও ড্রোন ধ্বংস করেছে ইরান
ছবি: মেহের নিউজ

ইসরায়েল-আমেরিকার বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানি বাহিনী মোট ১৯৬টি শত্রু বিমান ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা খাজেহ।

তিনি ওই যুদ্ধকে ন্যাটো ও পশ্চিমা প্রযুক্তির সঙ্গে ইরানের সরাসরি মোকাবিলা হিসেবে বর্ণনা করেন।

রোববার (৩০ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা মেহের।

ইরানি সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর ডেপুটি অপারেশন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা খাজেহ বলেন, সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক ক্ষয়ক্ষতির মুখেও এক মুহূর্তের জন্যও তাদের প্রতিরোধ বন্ধ হয়নি।

খাজেহ বলেন, ‘আমরা শুধু জায়নিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করিনি; আমরা ন্যাটো ও পশ্চিমা বিশ্বকেও মোকাবিলা করেছি।’

তিনি জানান, ১২ দিনের ওই যুদ্ধে অন্তত ৩৩টি দেশ ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খাজেহ জানান, ইরানকে যেসব হুমকির মুখোমুখি হতে হয়েছে তার মধ্যে ছিল—

  • ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র
  • ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
  • স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্র
  • লয়টারিং মিউনিশন
  • স্টিলথ যুদ্ধবিমান

খাজেহ নিশ্চিত করেন যে, ভূপাতিত ইসরায়েলি ড্রোনগুলোর মধ্যে হেরন, হার্মিস ৪৫০ ও হার্মিস ৯০০ মডেল অন্তর্ভুক্ত ছিল—যেগুলো কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল ও টার্গেটিং মিশনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

তার ভাষায়, ‘এসব ড্রোন ধ্বংস করে আমরা শত্রুর কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল নেটওয়ার্কের মস্তিষ্কই কার্যত ভেঙে দিয়েছি।’

এ সময় বিদেশি মিডিয়ার দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ইরান কোনোভাবেই আকস্মিক হামলায় বিস্মিত হয়নি।

তার ভাষায়, ‘প্রথম ঢেউ আসার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই সব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পূর্ণ অপারেশনাল অ্যালার্টে ছিল এবং পশ্চিম আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ করছিল।’

রেজা খাজেহ জানান, প্রথম ঢেউটি ছিল ক্রুজ ও স্ট্যান্ড-অব অস্ত্রের; কোনো যুদ্ধবিমান প্রথমে অংশ নেয়নি।

এ সময় তিনি নিশ্চিত করেন যে, ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের ৩৫ জন বিমান প্রতিরক্ষা সদস্য শহীদ হয়েছেন। তিনি এই শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সেই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের প্রশংসা করে খাজেহ বলেন, অনেকেই স্বেচ্ছায় ফিরে এসে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। অনেকে জানতেন তাদের অবস্থানেই হামলা হবে—তবুও পোস্ট ছাড়েননি।

ওই সময় কিছু ব্যবস্থায় দুর্বলতা ছিল বলেও স্বীকার করেন ইরানি এই কমান্ডার। তবে বিজ্ঞানী ও প্রতিরক্ষা শিল্প ইতোমধ্যেই সেগুলো উন্নত করার কাজ শুরু করেছে বলেও জানান।

খাজেহ সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে সামান্যতম হুমকি পুনরায় দেখা দিলে প্রতিক্রিয়া আরও বিধ্বংসী হবে—এ কথা আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’

তিনি জানান, ইরানে তৈরি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং বিমান প্রতিরক্ষা একটি আপেক্ষিক ও ক্রমবিকাশমান ক্ষেত্র।