গভীর সমুদ্রে জাহাজে লাফিয়ে উঠল ৩ মণ ইলিশ
সাধারণত সমুদ্রে জাল ফেলেই মাছ ধরা হয়। কিন্তু এবার গভীর সমুদ্রে ঘটল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে গভীর বঙ্গোপসাগরে কয়লাবাহী একটি লাইটার জাহাজে জালের সাহায্য ছাড়াই প্রায় তিন মণ ইলিশ লাফিয়ে উঠল। জাহাজের নাবিকদের কাছে এটি যেন ছিল এক অপার্থিব ‘ইলিশ-বৃষ্টি’।
কয়লাবাহী লাইটার জাহাজ এমভি কেএসএল গ্লাডিয়েটর-এর নাবিকরা হঠাৎ করেই এই বিস্ময়কর ঘটনার সাক্ষী হন।
জাহাজের প্রকৌশলী রবিউল হোসেন শনিবার (২৯ নভেম্বর) ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটির দিকে যখন জাহাজটি এগোচ্ছিল, তখনই সাগরের বুক চিরে জাহাজের দুই পাশ ঘেঁষে ছোট ছোট ইলিশের ঝাঁক দ্রুত ছুটে আসে।
নাবিকদের বর্ণনায়, ইলিশের সেই ঝাঁক যেন ভয় ও উৎসবের এক মিশ্রণে একসঙ্গে লাফিয়ে উঠছিল। মুহূর্তের মধ্যে রুপালি মাছের স্রোত জাহাজের ডেকে আছড়ে পড়তে শুরু করে।
ঘটনাটি এতটাই অবিশ্বাস্য ছিল যে, প্রকৌশলী রবিউল হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর মোবাইলে ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ধারণ করেন, যেখানে সমুদ্রের বুকে ইলিশের সেই আতঙ্ক-ভরা ছুট এবং জাহাজের ডেকে আকস্মিক ‘ইলিশ-বৃষ্টি’র দৃশ্য ধরা পড়ে। এই রকম দৃশ্য জীবনে একবারই দেখা যায় বলে মন্তব্য করেন হতবাক নাবিকেরা।
সমুদ্রের এমন অদ্ভুত আচরণের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার। তাঁর মতে, এই ঘটনার পেছনে শিকারী মাছের তাড়া, জাহাজের আলো এবং শব্দের প্রভাব দায়ী।
শিকারী মাছের তাড়া: সমুদ্রে যখন টুনা বা ম্যাকারেলের মতো বড় শিকারি মাছ ইলিশের পালকে তাড়া করে, তখন আতঙ্কে ছোট ইলিশেরা নিজেদের বাঁচাতে জাহাজের আলো বা শব্দের উৎসের দিকে দ্রুত ছুটে আসে।
হাইড্রোলিক প্রভাব: জাহাজের গা ঘেঁষে পানি সরু হয়ে যাওয়ার কারণে মাছগুলো ওপরের দিকে ঠেলে উঠে যায়, যার ফলে তারা লাফাতে লাফাতে ডেকে পড়ে যেতে পারে।
বিভ্রান্তি: জাহাজের নিচের নেভিগেশন লাইট, ইঞ্জিনের কম্পন বা প্রপেলারের শব্দ অনেক সময় ছোট মাছকে আকর্ষণ করে কিংবা বিভ্রান্ত করে, যার কারণে তারা দলবদ্ধভাবে জাহাজের খুব কাছে চলে আসে।
