পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্জ্য পৃথকীকরণ প্রয়োজন: পরিবেশ উপদেষ্টা

Bangla Post Desk
বাংলা পোস্ট প্রতিবেদক
প্রকাশিত:২৪ মার্চ ২০২৫, ১১:৫৫ পিএম
পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্জ্য পৃথকীকরণ প্রয়োজন: পরিবেশ উপদেষ্টা

পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও মিথেন গ্যাস নির্গমন হ্রাসে জরুরি ভিত্তিতে বর্জ্য পৃথকীকরণ পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন বলে অভিমত দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার (২৪ মার্চ) এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের এনডিসি ২০২১ পর্যালোচনা: বিকেন্দ্রীকৃত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মিথেন নিরসন কৌশল সংযোজন’ শীর্ষক অনলাইন পরামর্শ কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। 

দেশের অপরিকল্পিত ও অদক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এখনও জাতীয় পর্যায়ে কার্যকরভাবে বর্জ্য পৃথকীকরণ পদ্ধতি অনুসরণ করি না। কিছু পরীক্ষামূলক প্রকল্প থাকলেও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা কাঠামোবদ্ধ নয়।’

এ সময় বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বর্জ্য পৃথকীকরণ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের শহরাঞ্চলের বড় ল্যান্ডফিলগুলো নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করা হলেও সেগুলো পরিবেশগতভাবে সনদপ্রাপ্ত নয় এবং সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।’

রাজধানীর বাইরে অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করছে বলেও মত দেন তিনি।

ল্যান্ডফিল অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনে আগ্রহের কথা স্বীকার করলেও এর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়ে সজাগ থাকার তাগিদ দেন সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

বাংলাদেশের বর্জ্যে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় বর্জ্য পোড়ানো (ইনসিনারেশন) কার্যকর সমাধান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমিনবাজার ও মাতুয়াইলের মতো ল্যান্ডফিলের জন্য স্থানভিত্তিক টেকসই সমাধান প্রয়োজন।

বাংলাদেশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করছে বলে জানান রিজওয়ানা হাসান। এটি মিথেন নির্গমন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

তড়িঘড়ি করে অবাস্তব সমাধান গ্রহণের প্রবণতা বন্ধে বর্জ্য পৃথকীকরণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে অভিমত দেন পরিবেশ উপদেষ্টা।

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. কামরুজ্জামান, ইএসডিও সভাপতি সৈয়দ মারগুব মুরশেদ, এবং ইএসডিওর প্রধান নির্বাহী ও নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা।

এই পরামর্শ কর্মশালায় নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ ও স্টেকহোল্ডাররা মিলে বিকেন্দ্রীকৃত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মিথেন নিরসনের বাস্তবসম্মত কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।