পাহাড়ে বৈসাবীকে ঘিরে উৎসবের আমেজ

Bangla Post Desk
বাংলা পোস্ট প্রতিবেদক
প্রকাশিত:০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
পাহাড়ে বৈসাবীকে ঘিরে উৎসবের আমেজ

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বৈসাবীকে ঘিরে পাহাড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক ধর্মীয় উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু ও বিহু উপলক্ষে রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ইনস্টিটিউট মাঠ প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী (৩-৯ এপ্রিল) বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু ও বিহু মেলা ২০২৫ এর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বৈসাবীর উৎসবের উদ্বোধন করা হবে।

১২ এপ্রিল থেকে বৈসাবীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও এপ্রিলের শুরু থেকেই পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় বৈসাবীর আনুষ্ঠানিকতা।

বৈসাবী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ইনস্টিটিউটের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ৭ দিনব্যাপী বিজু, সাংগ্রাই. বৈসুক, বিষু ও বিহু মেলার উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল(অব:) অনুপ কুমার চাকমা।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, জেলা পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ সচিব) খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুনেল চাকমাসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত বিজু, সাংগ্রাই. বৈসুক,বিষু ও বিহু মেলায় ৩ এপ্রিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছে আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের বাদ্যবাজনা, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়া, খিয়ং, লুসাই, অহমিয়া, গুর্খা এবং ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন।

৪ এপ্রিল বিকেলে চাকমা ভাষা ও বর্ণমালা বিষয়ক প্রতিযোগিতা, ঘিলা খেলা (চাকমা), আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

৫ এপ্রিল - ঘিলা খেলা (তঞ্চঙ্গ্যা), ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি করা প্রতিযোগিতা, চাকমা নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

৬ এপ্রিল- মহিলাদের খেলাধুলা প্রতিযোগিতা, তঞ্চঙ্গ্যা নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

৭ এপ্রিল - শিশুদের প্রতিযোগিতা, আকর্ষণীয় খেলাধুলা - নাদেং, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

৮ এপ্রিল- চাকমা ভাষা ও বর্ণমালা বিষয়ক প্রতিযোগিতা (উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক শ্রেণী)।

৯ এপ্রিল - পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী পাজন রান্না প্রতিযোগিতা এবং রাঙ্গামাটির জনপ্রিয় ব্যান্ড শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বৈসাবী উৎসব পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় উৎসব হলেও পাহাড়ে এটা সকল সম্প্রদায়ের একটি মিলনমেলা বলা চলে।

আগামী ১২ এপ্রিল পাহাড়ের বৈসাবী উৎসবের প্রথম দিন চাকমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর ফুল বিজু বৈসু কিংবা বিষু। এদিন তারা বন থেকে ফুল আর নিম পাতা সংগ্রহ করে ফুল দিয়ে ঘর সাজানোর পাশাপাশি গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা করেন।

১৩ এপ্রিল দ্বিতীয় দিন চৈত্র সংক্রান্তির দিনকে বলা হয় মুল বিজু বৈসু বা বিষুু। এদিন তারা ঘরে ঘরে ঐতিহ্যবাহী পাচনসহ অন্যান্য খাবার রান্না করেন। আর ১৪ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলে মারমাদের জল কেলী উৎসব।

চৈত্র সংক্রান্তিতে পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করতে পাহাড়ে এখন বৈসাবী উৎসবের আমেজ বইছে। পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র-নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর এ উৎসব তিনটি আলাদা নামে হলেও সমতলের মানুষের কাছে তা বৈসাবী নামে পরিচিত।

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে পাহাড়ের গ্রামে গ্রামে উদযাপিত হবে বৈসাবী উৎসব এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।