হিলি সীমান্তের শূন্যরেখায় দর্শনার্থীদের ভিড়


পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেটের শূন্যরেখা দর্শনার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। একইসঙ্গে অনেক মানুষ ভিড় করছেন ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হিলি রেলওয়ে স্টেশন এলাকায়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবার-পরিজনদের নিয়ে অনেকেই এসেছেন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে। আবার কেউবা আসছেন ভারতে থাকা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে। তবে বিজিবির বাধার কারণে সীমান্তের শূন্যরেখায় মিলিত হতে না পেরে মন খারাপ করেই বাড়ি ফিরতে হয়েছে অনেককে।
সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের পর পর হিলি সীমান্ত ও রেলস্টেশন এলাকায় মানুষ ভিড় করতে শুরু করেন। বেলা যত বাড়তে থাকে তত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল, অটোভ্যান রিকশা, কার, মাইক্রোবাস ও বাস নিয়ে দর্শনার্থীরা আসছেন হিলি সীমান্তে। অনেকে সীমান্তে কাটাতারের বেড়ার পাশে দাঁড়িয়ে দূর থেকে ভারতে থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে ইশারায় মনের ভাব প্রকাশ করছেন।
হিলি সীমান্তে ঘুরতে আসা নূর ইসলাম বলেন, ‘দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিলিতে ঘুরে দেখতে এসেছি। একপাশে ভারত আর একপাশে বাংলাদেশের মাঝ দিয়ে আমাদের রেললাইন চলে গেছে। পাশেই ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হিলি রেলওয়ে স্টেশন। এখানকার দৃশ্য যে-কারও মন ভরিয়ে দেবে। অন্যদের মতো আমিও এখানে আসতে পেরে, এমন দৃশ্য দেখতে পেরে খুব খুশি।’
বগুড়া থেকে আসা ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমার ফুফাসহ বেশ কিছু আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন ভারতে; কিন্তু ভিসা না দেওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরে তাদের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হচ্ছে না। যেহেতু ঈদের সময়, শুনেছি বিজিবি ও বিএসএফ একটু ছাড় দেয়, দেখা করার সুযোগ দেয়। সে কারণে পরিবার নিয়ে ঈদের দিন হিলিতে চলে এসেছি। এপারে আমাদের মতো ভারতে থাকা আত্মীয়-স্বজন সীমান্তের ওপারে এসে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু বিজিবি তো আমাদের সীমান্তের কাছাকাছি গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার বা দেখা করার সুযোগ দিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে সীমান্তের এপার থেকে হাত নেড়ে মনের ভাব প্রকাশ করে ফিরে যেতে হচ্ছে।’
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ভিসা জটিলতার কারণে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার আগের তুলনায় কমেছে। আগে ৫ থেকে ৬শ যাত্রী পারাপার করলেও এখন তা কমে এসেছে। গতকাল ১০৪ জন যাত্রী পারাপার করা হয়েছে। তবে ঈদকে ঘিরে সীমান্তে দর্শনার্থীদের বেশ ভিড় বেশ লক্ষ করা গেছে। অনেকেই সীমান্ত এলাকা দেখার জন্য আসছেন। আবার অনেকে ভারতে তাদের আত্মীয়-স্বজনের দেখা করার উদ্দেশ্যে আসছেন। সীমান্তের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে হাত নেড়ে মনের ভাব প্রকাশ করে আবারও তারা চলে যাচ্ছেন। ঈদের দিন থেকেই এসব মানুষের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। আগামী ৩-৪ দিন এমন থাকবে।