নিজঘরে গৃহবধূকে হত্যা করে টাকা লুটের অভিযোগ

Bangla Post Desk
বাংলা পোস্ট প্রতিবেদক
প্রকাশিত:০১ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:১১ পিএম
নিজঘরে গৃহবধূকে হত্যা করে টাকা লুটের অভিযোগ

রাজবাড়ীতে সালমা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করে ঘর থেকে টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সালমা বেগম হাউলি জয়পুর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী আজাদ মল্লিকের স্ত্রী। তার সাদিক নামে সাত বছর বয়সী এক ছেলে ও সিনহা নামে পাঁচ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের হাউলি জয়পুর গ্রামে স্বামীর বাড়ির ঘরের খাটের ওপর সালমার গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

সালমার শাশুড়ি লতা বেগম বলেন, ‘ঈদের দিন সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে সালমা দুই শিশুসন্তান নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যায়। অন্য ঘরের এক কক্ষে আমি ও আমার ছোট ছেলে রাহাত ঘুমাই। আরেক কক্ষে আমার বড় ছেলে আমজাদ ও তার স্ত্রী ঘুমায়। সকাল ৬টার দিকে আমি ঘুম থেকে উঠে সালমার ঘরের সামনে গিয়ে নাতি সাদিককে ডাক দিই। সে সময় সাদিক ঘরের ভেতর থেকে কান্নাকাটি করে বাইরে থেকে দরজা খুলতে বলে। তখন দেখি ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। আমি দরজা খুলে ঘরের ভেতর ঢুকে দেখি, সালমা খাটের ওপর শোয়া অবস্থায় রয়েছে। তার শরীর কাঁথা দিয়ে ঢাকা এবং গলায় ওড়না টাইট করে পেঁচানো। তার দুই পাশে দুই সন্তান বসে আছে।’

লতা বেগম আরও বলেন, ‘আমার ছেলে ঈদের আগে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টাকার উপরে পাঠিয়েছে। সালমাকে হত্যা করে ঘর থেকে টাকা ও সালমার নাকের নাকফুল নিয়ে গেছে।’

সালমার সাত বছর বয়সী ছেলে সাদিক বলে, ‘রাতে আমাদের ঘরে হিমায়েত এসেছিল। তার সঙ্গে মুখোশ পরা আরও দুই জন ছিল। তারা আমার আম্মুকে মেরেছে।’

হেমায়েত কে জানতে চাইলে সাদিক বলে, ‘আমরা যখন ঢাকায় থাকতাম, তখন হিমায়েত আমাদের আঙ্কেল হতো।’

এদিকে, সালমার শ্বশুরবাড়ির কিংবা বাবার বাড়ির কোনও সদস্য হিমায়েত নামে কাউকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন। আজাদ ও সালমা ঢাকায় থাকাকালে হিমায়েত নামে কারও সঙ্গে পরিচয় থাকতে পারে বলে ধারণা তাদের।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘সালমা বেগমের গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার কারণ উদঘাটন ও এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।’