রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: আগামী সপ্তাহে হতে পারে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক

Bangla Post Desk
বাংলা পোস্ট ডেস্ক
প্রকাশিত:০৭ আগস্ট ২০২৫, ১০:২৬ এএম
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: আগামী সপ্তাহে হতে পারে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী সপ্তাহেই সরাসরি বৈঠকে বসতে পারেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা। এ খবর এমন সময় পাওয়া গেলো যখন ইউক্রেনে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় চীনও পড়তে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

এই বৈঠক হলে ২০২১ সালের জুনে জেনেভায় জো বাইডেন ও পুতিনের সাক্ষাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে এটিই হবে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।

ট্রাম্প বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, খুব শিগগিরই বৈঠকের একটি ভালো সম্ভাবনা আছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে এক ফোনালাপে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি প্রথমে পুতিনের সঙ্গে এবং পরে পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করছেন।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, রুশরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং প্রেসিডেন্ট উভয় নেতার সঙ্গেই বৈঠকে রাজি আছেন।

বুধবার মস্কোতে পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের বৈঠককে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ‘দারুণ অগ্রগতি’ বলে উল্লেখ করেন। যদিও পরে তিনি বলেছেন, এটিকে এখনও তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি বলা যাচ্ছে না। ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে বৈঠকটিকে গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ হিসেবে অভিহিত

ট্রাম্প ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন যে, শুক্রবারের মধ্যে সমঝোতায় না এলে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ হবে।

সম্প্রতি ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ইউক্রেনে শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি মস্কোর ওপর আরও কড়াকড়ি আরোপ করবেন এবং রুশ পণ্য আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর শুল্ক চাপাবেন। এরই অংশ হিসেবে বুধবার ভারতের রফতানি পণ্যে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প জানান, একই ধরনের শুল্ক চীনের ওপরও আরোপ করা হতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা ভারতের ওপর আরোপ করেছি। হয়তো আরও কয়েকটি দেশের ওপরও আরোপ করা হবে। তাদের মধ্যে একটি হতে পারে চীন।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, উইটকফ-পুতিন বৈঠক সফল হলেও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত দেশগুলোর ওপর ট্রাম্প ঘোষিত সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা শুক্রবার থেকেই কার্যকর হতে পারে।

ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেছেন, ইউক্রেন ইস্যুতে উভয় পক্ষ সংকেত আদান-প্রদান করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা গড়ার সম্ভাবনা আলোচিত হয়েছে। তবে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এক ভিডিও ভাষণে বলেছেন, রাশিয়ার ওপর চাপ কার্যকর হয়েছে এবং মস্কো এখন অস্ত্রবিরতির দিকে কিছুটা আগ্রহী।

তিনি বলেন, তাদের ওপর চাপ কাজ করছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তারা যেন আমাদের বা যুক্তরাষ্ট্রকে খুঁটিনাটিতে ঠকাতে না পারে।

বুধবার ট্রাম্প জানান, উইটকফের বৈঠকের বিষয়ে তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের অবহিত করেছেন। জার্মান চ্যান্সেলরসহ ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে এক ফোনালাপে এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাম্প। বার্লিনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

রুশ তেল আমদানির কারণে ভারতের কিছু পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তকে চরম দুর্ভাগ্যজনক বলেছে।

এদিকে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি চীনকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, রুশ তেল কিনলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইনের আওতায় বড় ধরনের শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান শুল্ক বিরতি চুক্তির মেয়াদ ১২ আগস্ট শেষ হতে যাচ্ছে। এরপর দ্বিপাক্ষিক শুল্ক আবার তিন অঙ্কে পৌঁছাতে পারে।

ব্লুমবার্গ ও রুশ সংবাদমাধ্যম দ্য বেল জানিয়েছে, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষ বিমান হামলায় বিরতি দিতে পারে। পুতিনের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

যদিও এটি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির বদলে সীমিত সাময়িক পদক্ষেপ হবে। তবুও এতে উভয় পক্ষ সাময়িক স্বস্তি পেতে পারে।

মে মাসে শান্তি আলোচনা ফের শুরুর পর থেকে রাশিয়া সবচেয়ে ভারী বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে শুধু কিয়েভেই কমপক্ষে ৭২ জন নিহত হন। এই হামলাকে ট্রাম্প জঘন্য বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি ডিপোতে একাধিকবার পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

ক্রেমলিন ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, পুতিন মনে করেন তিনি যুদ্ধজয়ে অগ্রগামী এবং সামরিক লক্ষ্য অর্জনই তার কাছে মার্কিন সম্পর্কোন্নয়নের চেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।